বাণিজ্য

জেলখানাতেই মরতে চান

জেলখানাতেই মরতে চান জেট এয়ারের মালিক নরেশ গয়াল

ভারতের জেট এয়ারওয়েজের প্রতিষ্ঠাতা নরেশ গয়াল দেশটির আদালতে আবেগপ্রবণ হয়ে বলেছেন যে তিনি জীবনের ওপর সব আশা হারিয়ে ফেলেছেন। আর্থিক জালিয়াতির মামলায় সত্তরোর্ধ্ব নরেশ গয়ালকে গতকাল শনিবার মুম্বাইয়ের বিশেষ আদালতে হাজির করা হলে তিনি সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জেট এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ
জেট এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজছবি: রয়টার্স

 

অশ্রুসজল চোখে আদালতের সামনে করজোড়ে নরেশ গয়াল বলেন, জীবনের ওপর সব আশা হারিয়ে এখন তিনি যে অবস্থায় আছেন, তার চেয়ে জেলখানায় মারা যাওয়াই ভালো। টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর দিয়েছে।

আদালতের কাছে নরেশ গয়াল আরও বলেন, তাঁর স্ত্রী অনিতা ক্যানসারে আক্রান্ত। রোগের শেষ পর্যায়ে আছেন তিনি। এই সময় অনিতার পাশে তাঁর থাকা দরকার।

ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট গত বছরের পয়লা সেপ্টেম্বর নরেশ গয়ালকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে মুম্বাইয়ের আর্থার রোড কারাগারে রয়েছেন।

আদালতে নরেশ গয়াল যখন এসব কথা বলছিলেন, তখন তাঁর শরীর থরথর করে কাঁপছিল। আদালতে তিনি জানান, তাঁর স্ত্রীর অবস্থা সংকটজনক। একমাত্র কন্যাও অসুস্থ। জেলের কর্মীরা তাঁকে ঠিকমতো সহযোগিতা করছেন না বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।

এ সময় বিচারক বলেন, নরেশ গয়ালের যে শারীরিক অবস্থা, তাতে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর জন্যও তাঁর সহযোগিতা প্রয়োজন।

আদালতে নরেশ গয়াল বলেন, তাঁর প্রস্রাবের সমস্যা। মাঝেমধ্যে প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়ে। হাঁটুর সমস্যার কারণে ঠিকমতো দাঁড়াতে পারেন না। তিনি জানান, তাঁর স্বাস্থ্য সংকটজনক, কিন্তু জেজে হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই হাসপাতালে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, সে জন্য তাঁর ঠিকঠাক চিকিৎসাও হচ্ছে না। এই অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে না পাঠিয়ে জেলে ‘মরার’ অনুমতি দিক আদালত।

নরেশ গয়ালের অবস্থা দেখে আদালত তাঁকে আশ্বস্ত করেন, তাঁর শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতির সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত তাঁর আইনজীবীকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

তবে গতকাল জামিন হয়নি নরেশ গয়ালের। আদালত জানায়, ১৬ জানুয়ারি তাঁর জামিনের বিষয়ে শুনানি হবে।

কানাডা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জেট এয়ারওয়েজ (ইন্ডিয়া) লিমিটেডকে (জেআইএল) ৮৪৮ দশমিক ৮৬ কোটি রুপির যে ঋণ দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে ৫৩৮ দশমিক ৬২ কোটি রুপি বকেয়া আছে। ব্যাংকের আরও অভিযোগ ছিল, জেটের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় দেখানো হয়, তারা নিজেদের বিভিন্ন কোম্পানিকে সীমার বাইরে গিয়ে ১ হাজার ৪০০ কোটির বেশি রুপি ঋণ দিয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথম তদন্ত শুরু করেছিল সিবিআই। জেট এয়ারওয়েজের বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি গয়ালসহ অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জেরাও করা হয়েছিল।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে সিবিআই জানিয়েছিল, জেআইএলের নমুনা চুক্তিতে উল্লেখ করা রয়েছে, জেনারেল সেলিং এজেন্টদের (জিএসএ) খরচ তাঁদের নিজেদেরই বহন করতে হবে। তাই জেট কর্তৃপক্ষ জিএসএর নামে ৪০৩ কোটি টাকার যে খরচ দেখিয়েছে, তা আইনসম্মত নয়। এ ছাড়া নরেশ গয়াল ব্যক্তিগত কারণে জেটের অর্থ ব্যবহার করেছেন বলে সিবিআইয়ের এফআইআরে অভিযোগ করা হয়।

সেই এফআইআরের ওপর ভিত্তি করে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সন্ধানে তদন্ত শুরু করে ইডি। এরপর গত বছরের মে মাসে নরেশ গয়ালের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করে সিবিআই এবং আর্থিক তছরুপের মামলা করে ইডি। সেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এই ব্যবসায়ীকে।

এরপর কানাডা ব্যাংকের ৫৩৮ কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত নরেশ গয়াল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সমপরিমাণ অর্থের স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। গত অক্টোবরে ইডি জানায়, ভারতের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি গয়াল পরিবারের লন্ডন ও দুবাইয়ের বাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রী অনিতা ও ছেলে নিভানের একাধিক কোম্পানির সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button