বাংলাদেশ

এমআরটি ও র‍্যাপিড পাসের কী পার্থক্য, খরচ কত?

বছরখানেক আগে মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। মেট্রোরেল আমাদের দেশের জনসংখ্যাকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি নতুন যুগে আবদ্ধ করেছে। উন্নত দেশগুলোয় মেট্রোরেল এবং অন্যান্য পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন মাধ্যমগুলোকে একত্রিত করে একটি উন্নত রুট সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে যাতে মানুষ শুধু একটি পেমেন্ট কার্ডের মাধ্যমে তাদের গন্তব্যে ভ্রমণ করতে পারে। বাংলাদেশে এরই মধ্যে মেট্রোরেলে এ ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।

শনিবার পুরোদমে চালু হচ্ছে মেট্রোরেল সেবা। ছবি : সংগৃহীত

মেট্রোরেলে সিঙ্গেল, এমআরটি ও র‌্যাপিড–এই তিন ধরনের পাস ব্যবহার করে যাতায়াত করেন যাত্রীরা।
২ মিনিটে পড়ুন

এই আধুনিক গণপরিবহনটিতে যাতায়াতে সিঙ্গেল, এমআরটি ও র‌্যাপিড–এই তিন ধরনের পাস ব্যবহার করছেন নিয়মিত যাত্রীরা।

এমআরটি পাস

এমআরটি পাস হলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক সংযোগবিহীন স্মার্ট আইসি কার্ড। এর মাধ্যমে ঝামেলা ছাড়াই সহজে মেট্রোরেলের ভাড়া পরিশোধ করা যায়। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এমআরটি পাস ব্যবহারকারীরা অদূরভবিষ্যতে বিভিন্ন পরিবহন ব্যবহারে এই কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

র‍্যাপিড পাস

দেশের গণপরিবহনের সমন্বিত ই-টিকিটিং ব্যবস্থা ও ভাড়া আদায়ে সর্বাধুনিক স্মার্ট কার্ড ‘র‍্যাপিড পাস’ সুবিধা চালু করেছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ। দেশের বিভিন্ন গণপরিবহন যেমন: মেট্রোরেল, বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসির নৌযান সার্ভিস, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বাস সার্ভিসে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে যাতায়াতে ঝামেলাহীন পেমেন্ট সুবিধা পেতেই র‍্যাপিড পাস সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

এমআরটি ও র‍্যাপিড পাসের পার্থক্য

এমআরটি বা র‌্যাপিড পাসে খুব একটা পার্থক্য নেই, প্রায় একই সুবিধা পাওয়া যাবে। একজন ব্যক্তি চাইলে একাধিক কার্ড ইস্যু করতে পারবেন। তবে একটি পরিচয়পত্রের বিপরীতে একটি কার্ড নেয়াই উত্তম।

 
র‍্যাপিড পাস কার্ডের প্রাথমিক মূল্য ৪০০ টাকা। এর মধ্যে ২০০ টাকা প্রাথমিক রিচার্জ এবং বাকি ২০০ টাকা কার্ডের মূল্য।
 
কেনার পর র‍্যাপিড পাস কার্ড ব্যবহারকারী (নন-রেজিস্টার্ড) ফেরত দিতে চাইলে জমা করা রিচার্জ টাকার ৫% কেটে অবশিষ্ট টাকা কার্ড জমা দেয়ার এক কর্মদিবস পর ফেরত দেয়া হবে।
 
কার্ড ব্যবহারকারী একবারে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা রিচার্জ করতে পারবেন। কিন্তু কার্ডের ব্যালেন্স ২০০০ টাকা অতিক্রম করতে পারবে না।
 
কার্ডে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলেও ব্যবহারকারী শুধু একবার কার্ডটি ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। তবে পরবর্তী রিচার্জের পরপরই উহা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় হবে।
  

যেভাবে করবেন এমআরটি পাস

ডিএমটিসিএল-এর ওয়েবসাইট বা মেট্রোরেল স্টেশন থেকে ফরম সংগ্রহ করে পূরণ করে মেট্রোরেলের টিকিট কাউন্টারে জমা দিলেই পাওয়া যাবে এমআরটি পাস কার্ড।

নিবন্ধন করতে নিজের নাম, মাতা-পিতার নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল আইডি লাগবে। মেট্রোরেলের প্রতিটি স্টেশন থেকে সকাল সোয়া ৭টা থেকে রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এমআরটি পাস কেনা যাবে।

 

এমআরটি পাসের খরচ কত?

এমআরটি কার্ড নিতে হলে খরচ হবে ৫০০ টাকা। এর মধ্যে ২০০ টাকা কার্ডের জামানত হিসেবে থাকবে, যা কার্ড জমা দিলেই ফেরত পাওয়া যাবে। বাকি ৩০০ টাকা ব্যালেন্স থাকবে যা দিয়ে ট্রেনে যাতায়াত করা যাবে।

এমআরটি টপআপ

যে কোনো স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে কার্ডে টাকা রিচার্জ করা যাবে। টিকিট বিক্রির মেশিনেই টপআপ অপশন রয়েছে। যেখান থেকে সহজেই টাকা দিয়ে রিচার্জ করে নেয়া যাবে।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button