cancer
প্রস্টেট ক্যান্সার একটি প্রাণঘাতী রোগ। সময় থাকতে থাকতে কীভাবে সচেতন হবেন, জানাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. সোরোস রাইস বাহরামি।
প্রস্টেট ক্যান্সার একটি প্রাণঘাতী রোগ। তবে প্রথমে ধরা পড়লে প্রাণে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু, সচেতনতার অভাবে অনেকেই বুঝতে পারে না যে, এই মারণরোগ শরীরে বাসা বেঁধেছে। সুতরাং সময় থাকতে থাকতে কীভাবে সচেতন হবেন, জানাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডা. সোরোস রাইস বাহরামি।

কথায় বলে, ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’। অর্থাৎ রোগ হওয়ার আগে তা প্রতিরোধ করাই শ্রেয়।  ৫০ বছর বয়সের পর পুরুষদের প্রস্টেট ক্যান্সারের আশঙ্কা বাড়তে থাকে। সুতরাং, ৫০ বছর পার হলেই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যদি আপনার পরিবারে প্রস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকে, তা হলে তো অতিরিক্ত সতর্ক হতেই হবে! ৫০ বছর বয়সের পর প্রতি বছর নিয়ম করে প্রস্টেট পরীক্ষা করান।

 তা ছাড়া, রক্ত পরীক্ষা করাতে হবে। দেখতে হবে রক্তে পিএসএ (প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) কতটা আছে। পিএসএ-র মাত্রাই বলে দেবে আপনার ক্যান্সারের আশঙ্কা। সেই সঙ্গে করাতে হবে ডিজিটাল রেক্টাল পরীক্ষা। প্রস্টেটে কোনও রকম স্ফীতি দেখা গেলে দেরি না করে বায়োপ্সি করাতে হবে। এখন চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। ফলে, ভবিষ্যতে ক্যান্সার হতে পারে বোঝা গেলে বা একদম গোড়ায় ধরা পড়লে ভয় থাকে না।

একদম শুরুর দিকে প্রস্টেট ক্যান্সারের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। যখন রোগটি অ্যাডভান্সড স্টেজে চলে যায়, তখন একে একে লক্ষণ প্রকট হতে শুরু করে। তলপেটে অসহ্য যন্ত্রণা, প্রস্রাব কিংবা বীর্যের সঙ্গে রক্ত, মূত্রনালিতে কিছু আটকে আছে বোধ হওয়া ইত্যাদি প্রস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ। অ্যাডভান্সড স্টেজে প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যন্ত্রণা তলপেট থেকে গোটা কোমরে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রস্টেট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে চিকিৎসা হল চিরাচরিত কেমোথেরাপি এবং রেডিয়েশন থেরাপি। এ ছাড়াও আজকাল ক্রায়োসার্জারির মতো উন্নত চিকিৎসা বেরিয়েছে। এই পদ্ধতিতে খুব কম তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ক্যান্সারের কোষগুলিকে ঠান্ডায় জমিয়ে দিয়ে মেরে ফেলা হয়। এ ছাড়া রয়েছে হরমোন থেরাপি এবং আলট্রাসাউন্ড থেরাপি। এই দুই পদ্ধতিতে যথাক্রমে হরমোন এবং নির্দিষ্ট মাত্রায় শব্দতরঙ্গ প্রয়োগে ক্যান্সারের কোষগুলিকে ধ্বংস করা হয়। এই সব চিকিৎসা পদ্ধতিতে কাজ না হলে অস্ত্রোপচার করাই একমাত্র পথ।

© Copyright 2014-2018, All Rights Reserved ||| Powered By AnyNews24.Com || Developer By Abir-Group

%d bloggers like this:
www.scriptsell.net