Image result for ২ ঘণ্টা সানশেডে লুকিয়ে ছিল ধর্ষক, দরজা খুললে সবার চোখের সামনে দিয়েই পালিয়ে যায়!

উত্তর বেগুনবাড়ী সিদ্দিক মাস্টার ঢালের ৪৭ নম্বর বাসার ২য় তলায় তৃপ্তিকে নিয়ে থাকতেন হাসান আলী ও তার স্ত্রী। স্বামী-স্ত্রী ২ জনই কারওয়ানবাজারের বিভিন্ন আড়তে মাল টানার কাজ করেন তিনিও। ভোররাতে হাসান আলী মসজিদে যান আর মা মাল টানার কাজে যান আড়তে। এ সময় ঘুমে ছিল মেয়ে সাগরিকা তৃপ্তি (১২)। তাই মেয়েকে না জাগিয়ে দরজা ভেজিয়ে বেরিয়ে যান হাসান আলী। তৃপ্তির ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে চাননি তিনি। সকালে পাশের ঘরের ভাড়াটিয়ারা তৃপ্তির ঘর থেকে ‘ও, মাগো’ একটি চিৎকার শোনেন। সন্দেহ হলে তারা এসে তৃপ্তির বাসার সদর দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। ভেতরে ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে খবর দেন হাসান আলীকে।

পরে বাড়ির লোকজনদের নিয়ে ভেনটিলেটার ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা দেখতে পান মেঝেতে বিবস্ত্র, অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে তৃপ্তি। এ সময় দরজায় তালা মেরে তৃপ্তিকে স্থানীয় শমরিতা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ নিয়ে যায় থানায়। এদিকে দরজায় তালা পড়ায় তৃপ্তির কক্ষে আটকা পড়েন আলম।

সকাল ৯টার কিছু পরে তৃপ্তির বড় বোন কুলসুম ও মুন্নিসহ অন্য নারীরা যখন দরজার তালা খুলে ভেতরে ঢোকেন, তখন আলম দাশ সানশেডের ওপর থেকে হুড়মুড়িয়ে লাফিয়ে পড়েন তাদের ওপর। মুন্নিসহ উপস্থিত নারীরা পড়ে গেলে দৌড়ে পালান আলম। গতকাল বিকালে হাসান আলী যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন অসহায় বাবা হাসান আলীর চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল জল। পাশেই মেয়ে হারানোর শোকে আহাজারি করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তার স্ত্রী রওশন। মুন্নির হত্যাকারীর ফাঁসি দাবি করে এই দম্পতি।

তার পালিয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে হাতিরঝিল সংলগ্ন একটি বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজে। তাতে দেখা গেছে, গোলাপি রঙের টিশার্ট আর থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পরিহিত আলম দাশ সকাল ৯টা ১৩ মিনিটে তৃপ্তিদের বাড়ির গলি থেকে বেরিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে হাতিরঝিলের দিপিকার মোড়ের দিকে। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ধাওয়া দিলেও ধরতে পারেনি। ময়নাতদন্তের জন্য তৃপ্তির মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলম দাশের মেস পার্টনার ৫ জনকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এসআই কামাল হোসেন জানান, গতকাল সকাল ১০টার দিকে শমরিতা হাসপাতাল থেকে তৃপ্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে মেয়েটিকে। জব্দকৃত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে রুম থেকে পালিয়ে যাওয়া এক যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

© Copyright 2014-2018, All Rights Reserved ||| Powered By AnyNews24.Com || Developer By Abir-Group

%d bloggers like this:
www.scriptsell.net