বনানী থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুন্দরী সোহেল। আর কাজী রাশেদ ছিলেন বনানী থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং সুন্দরী সোহেলের দেহরক্ষী। গত শনিবার গভীর রাতে রাশেদকে খুনের পর লাশ সরিয়ে নেওয়া হয়। সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে সুন্দরী সোহেলের সিসি ক্যামেরাগুলোর ফুটেজে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পলাতক সুন্দরী সোহেল। পুলিশ তার অফিসের কম্পিউটারে ধারণকৃত সিসি ক্যামেরার সব ফুটেজ জব্দ করেছে।

মহাখালীর স্কুল রোডের জিপি-গ/৩৩/১ নম্বর ভবনের (কঙ্কাল বাড়ি) নিচতলায় কথিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘রেইনবো নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম’ নামের একটি অফিস রয়েছে। সাইনবোর্ডে প্রতিষ্ঠানটির নামের নিচে বড় বড় হরফে লেখা রয়েছে- প্রকাশক : ইউসুফ সরদার (সোহেল)। সুন্দরী সোহেলের অফিস এটি। এখানে বসেই রাজধানীর গুলশান, বনানী ও মহাখালী এলাকার ডিশ ব্যবসা, টেন্ডার, চাঁদাবাজি ও মাদকব্যবসাসহ নানা অবৈধ কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি।

গত রবিবার ভোরে এ কঙ্কাল বাড়ির পেছনের গলি থেকে উদ্ধার করা হয় কাজী রাশেদের গুলিবিদ্ধ লাশ। রাশেদের লাশ তার অফিসের সামনের সরু পথ দিয়ে টেনে ভবনটির সীমানাপ্রাচীরের উল্টোপাশে ফেলে দেওয়া হয়। এ অপকর্মের ফুটেজ এখন তদন্ত কর্মকর্তাদের হাতে।

ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার দিনগত রাত ৩টা ৪ মিনিটে হাতে পলিথিনের ব্যাগ পেঁচিয়ে রাশেদের নিথর দেহ টেনে-হিঁচড়ে সরু ওই গলিপথ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ৪ যুবক। একটু পরই দেখা যায়, যুবকরা ফিরে আসছে। এ সময় পাশের দেয়ালে হাতে লেগে থাকা কিছু একটা (রক্ত!) মোছেন দিপু। তারা একে একে ধীরেসুস্থে অফিসের সামনের গলি দিয়ে বেরিয়ে যান। এই ৪ যুবক হলেন-মহাখালী দক্ষিণপাড়ার ডিশ ব্যবসায়ী ফিরোজ, সুন্দরী সোহেলের বডিগার্ড হাসু, সুন্দরী সোহেলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রক দিপন ওরফে দিপু। চতুর্থ জন ফর্সা লম্বা গড়নের। তার পরিচয় উদ্ঘাটন হয়নি। ফুটেজে সুন্দরী সোহেলকে দেখা যায়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, সুন্দরী সোহেলের অফিসে বা এর আশপাশে রাশেদকে হত্যা করা হয়েছে। নারীঘটিত কিংবা চাঁদার ভাগাভাগির মতো কোনো বিষয় এ হত্যার নেপথ্য কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। শনিবার দিনগত রাত আনুমানিক সোয়া ২টার দিকে কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক অধিবাসী। ঘটনার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটিতে ঝুলছে তালা, লাপাত্তা সুন্দরী সোহেল ও তার সহযোগীরা।

ঘটনার দুদিনেও পুলিশ সন্দেহভাজন কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিহতের স্বজনরা এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।

রাশেদের বাবা আবুল হোসেন জোর গলায় অভিযোগ করেন, সুন্দরী সোহেল ও তার সহযোগীরাই রাশেদকে গুলি করে হত্যা করেছে। খুুনিদের গ্রেপ্তার করতে পারলেই হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

© Copyright 2014-2018, All Rights Reserved ||| Powered By AnyNews24.Com || Developer By Abir-Group

%d bloggers like this:
www.scriptsell.net