আদালতে সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। ফাইল ছবি

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আজ বুধবার শেষ হয়েছে। আরেক আসামি সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু হয়েছে।

২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই পরবর্তী যুক্তিতর্ক এর শুনানির দিন ঠিক করেছেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন।

শুনানির শুরুতে রেজ্জাকুলের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন তাঁর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। আদালতকে তিনি বলেন, ‘আসামি রেজ্জাকুল ষড়যন্ত্র করেছেন, এর কোনো প্রমাণ নেই। মেধাবী অফিসারদের শায়েস্তা করার জন্য তাঁদের এ মামলার আসামি করা হয়েছে। মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মামলায় দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক রং।’

রেজ্জাকুলের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন যুক্তিতর্ক শেষ করলে সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালামের পক্ষে যুক্তিতর্ক শুনানি শুরু করেন তাঁর আইনজীবী রফিকুল ইসলাম।

রফিকুল ইসলাম আদালতকে বলেন, ‘এ মামলাটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আবদুস সালামকে আসামি করা হয়েছে। উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, সংস্কৃতি বিশ্লেষণ করার প্রয়োজন রয়েছে। এগুলো দেখলে বোঝা যাবে, আবদুস সালাম পিন্টু এ মামলায় কোনোভাবে জড়িত নন।’
পরে পিন্টুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান তাঁর আইনজীবী রফিকুল ইসলাম। পিন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগে মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানসহ অন্য আসামিরা তাঁর কাছে হামলার পরিকল্পনার কথা জানান। হামলার পরিকল্পনায় সায় দিয়ে প্রশাসনিক ও আর্থিক সহায়তা দেন পিন্টু।

আজ আইনজীবী রফিকুল ইসলাম যখন যুক্তিতর্ক শুনানি করছিলেন, তখন আসামি আবদুস সালাম পিন্টু আদালতকে বলেন, মামলার ব্যাপারে তিনি কিছু কথা বলতে চান। আদালত তখন পিন্টুকে বলেন, তাঁর আইনজীবীর বক্তব্য শেষ হলে তিনি কথা বলার সুযোগ পাবেন। পিন্টুর আইনজীবী রফিকুল ইসলাম আদালতকে জানান, টাঙ্গাইল থেকে এসে মামলা পরিচালনা করছেন তিনি। পিন্টু তাঁর বন্ধু।

বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে আদালতের কার্যক্রম শেষ হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, আদালতের অনুমতি নিয়ে বেলা দুইটায় এজলাসে আসামিদের সঙ্গে দেখা করেন তাঁদের স্বজনেরা। তাঁরা সেখানে ২০ মিনিট অবস্থান করেন।
পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত বিশেষ এজলাসে এই মামলার বিচারকাজ চলছে। আদালত সূত্র বলছে, পিন্টুর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে বাকি থাকবে একজনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার। তিনি মামলার অন্যতম আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।

এর আগে গত মঙ্গলবার রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে তাঁর আইনজীবী মোহাম্মাদ আহসান বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে সত্য। তবে রাষ্ট্রপক্ষ নিরপেক্ষ সাক্ষী দিয়ে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। রেজ্জাকুলের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সাক্ষ্যও নেই। আইনজীবী আহসান আদালতে দাবি করেন, মুফতি হান্নানের প্রশ্নবিদ্ধ জবানবন্দিতে হাওয়া ভবনে বৈঠক করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। হাওয়া ভবনে উপস্থিত থাকার কোনো যুক্তিযুক্ত কারণ থাকতে পারে না।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আহত হন কয়েক শ নেতা-কর্মী।

© Copyright 2014-2018, All Rights Reserved ||| Powered By AnyNews24.Com || Developer By Abir-Group

%d bloggers like this:
www.scriptsell.net