জেলখানায় যেতে হচ্ছে ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ককে

 জেলখানায় যেতে হচ্ছে ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ককে

জেলখানায় যেতে হচ্ছে ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ককে

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবলারদের লুকা মদ্রিচ। বর্তমানে তিনি স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অনেক বছর ধরে খেলে আসছেন। এদিকে ক্রোয়েশিয়া দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলবে তাঁর দল। স্বাভাবিকভাবেই পুরো দেশের জন্য এটা সম্মানের ব্যাপার।

দেশকে ফাইনালে নিয়ে গেলেও তিনি নিজ দেশে ঘৃণার একজন পাত্র। মদ্রিচকে তাঁরা মিথ্যাবাদী হিসেবেই চিনেন। সেই সঙ্গে মদ্রিচের প্রতি অনাস্থাও রয়েছে সে দেশের ফুটবল অনুরাগীদের মধ্যে।

মদ্রিচের প্রতি ক্রোয়াট জনগণের ক্ষোভ, রাগ ও অভিমানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ক্রোয়েশিয়ার ফুটবল ইতিহাস। মদ্রিচ এক সময়ে খেলতেন ক্রোয়েশিয়ার অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় ক্লাব ডায়নামো জাগরেবে। এই ক্লাবের নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন এক সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মামিচ।

প্রভাবশালী লোক হওয়ায় প্রতিভাবান ও উঠতি খেলোয়াড়দের ওপর কিছুটা প্রভাব খাটাতেন। লুকা মদ্রিচ, দেজান লভরেন, সিমে ভারসালকোর মতো তারকার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন তিনি। চুক্তিতে উল্লেখ করা ছিল ক্লাবের হয়ে তাঁরা যতদিন থাকবেন ততদিন তাঁদের সব খরচের দায়িত্ব নিবেন মামিচ নিজে। সেই সঙ্গে আর্থিক সহায়তাও ছিল চুক্তির একটি অংশ। কিন্তু খেলোয়াড়দের সঙ্গে একটি আলাদা চুক্তি হয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল যদি খেলোয়াড়রা কখনো এই ক্লাব ছেড়ে অন্য ক্লাবে পাড়ি জমান, সেই ক্ষেত্রে তাঁদেরকে ট্রান্সফার ফির একটি অংশ মামিচকে দিয়ে যেতে হবে।

সেই সঙ্গে মামিচ আরও একটি বিষয় জুড়ে দেন চুক্তিতে। চুক্তিতে বলা হয়েছিল তাঁদের খেলোয়াড়দের এজেন্ট হবে মামিচের পুত্র মারিও। অর্থাৎ কোন খেলোয়াড় যদি এক দল থেকে অন্য দলে ট্রান্সফার হয় সে ক্ষেত্রে ট্রান্সফার ফির একটি অংশ আয় করেন এজেন্টরা। সেই সময় চুক্তি মেনেই চুক্তিতে সই করেছিলেন মদ্রিচ।

২০১০ সালে তিনি ওই ক্লাব ছেড়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। ইংলিশ ক্লাব টোটেনহ্যামে যোগ দিয়েছিলেন ১০.৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে। ইংল্যান্ডে পাড়ি জমানোর জন্য মদ্রিচের চুক্তি অনুযায়ী মাচিচকে দিতে হয়ে ৮.৫ মিলিয়ন ইউরো।

এই চুক্তিগুলোর পুরো প্রক্রিয়াই ছিল অবৈধ। যার কারণে এক সময় এই ঘটনাগুলো সবার সামনে আসে। লেনদেনে অবৈধ পন্থা অবলোপন করায় এক সময় মাচিচ পুলিশের কাছে ধরা পড়েন। শুনানি শেষে তাঁকে এই জন্য ৬ বছরের সাজাও দেওয়া হয়।

মামলা চলাকালীন সময় সাক্ষ্য দিয়েছিলেন খোদ মদ্রিচ। এই সাক্ষ্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি হয়ে যান দেশের কাছে ভিলেন। সাক্ষ্য দিতে যে মদ্রিচ বলেছিলেন, তিনি মনে করতে পারছেন না তিনি ডায়নামো জাগরেবে কতো টাকা আয় করতেন। এবং যেই চুক্তিপত্রের শর্ত নিয়ে মামলা চলছে, সে সব শর্ত নাকি মদ্রিচ টোটেনহ্যাম যাওয়ার আগে থেকেই ছিল বলে তিনি দাবী করেন।

কিন্তু তদন্তের এক পর্যায়ে দেখা যায় মদ্রিচের একটি বক্তব্য তাঁর পরবর্তী বক্তব্যর মধ্যে কিছুটা সাংঘর্ষিক হচ্ছে। যার কারণে মদ্রিচের বিরুদ্ধে আনা হয় মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার অভিযোগ। আর এই অভিযোগের শুনানি শুরু হবে বিশ্বকাপের পরপরই। ঘটনা যদি প্রমানিত হয় সে ক্ষেত্রে মদ্রিচকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড পেতে হবে।

মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন মদ্রিচ এটা জানাজানি হলে, দেশের মানুষের কাছে তিনি হয়ে যান ভিলেন। আর নিজের মর্যাদার আসনটি খোয়ান দেশবাসীর কাছে। বিশ্বকাপ জয় করতে পারলে দেশের মানুষ তাঁকে আবারও পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে গ্রহণ করে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।

READ  ভারতের বিদায়ে বাংলাদেশ জুড়ে উল্লাস

Leave a Reply

%d bloggers like this: