bdmorning Image Preview

 

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার নাসরিন আক্তার রিবা হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন পর এঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। হত্যার ঘটনায় আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান চাঁদপুরের পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির।

পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, ১২ অক্টোবর রাতে পূর্বহাটিলার বেপারী বাড়ির প্রবাসী আব্দুর রহিমের মেয়ে নাসরিন আক্তার রিবাকে কে বা কারা অজ্ঞান করে ফেলে যায়। পরদিন হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় তার বাবা মামলা করেন।

এ ঘটনায় রিবার স্বামী হযরত আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে পরকীয়ার তথ্য জানায়। সেই সঙ্গে রিবাকে হত্যার ঘটনা বর্ণনা করে হযরত আলী।

পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির আরও বলেন, ছোট বোন আইরিন আক্তার রেখার (১৬) সঙ্গে রিবার স্বামী হযরত আলীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্ক গভীর হলে রেখা ও হযরত আলী একে-অপরকে কাছে পেতে রিবাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রাতে রিবার পায়ে ওড়না পেঁচিয়ে দুই পা চেপে ধরে আদরের ছোট বোন রেখা। এ সময় রিবার বুকের ওপর বসে মুখে বালিশ চাপা দেয় হযরত আলী। এতে মৃত্যু না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে রিবার বুকের পাঁজরে ঘুষি মারে এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে আলী। এ অবস্থায় রিবা অজ্ঞান হয়ে গেলে তার বুকে ছুরি বসায় ছোট বোন। এ সময় প্রতিবেশীরা শব্দ শুনে এগিয়ে আসে। রিবার ঘরে দরজা ধাক্কা দিলে পেছনের দরজা দিয়ে হযরত আলীকে বের করে দেয় রেখা। পাশাপাশি অজ্ঞান হওয়ার ভ্যান করে শুয়ে থাকে সে।

পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির বলেন, ঘটনার পরদিন সকালে রিবাকে কুমিল্লা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর রিবাকে হত্যা করা হয়েছে জানতে পারে পুলিশ। পরে রিবার স্বামী হযরত আলী ও ছোট বোন রেখাকে গ্রেফতার করা হয়। এতে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। সেই সঙ্গে আদালতে দোষ স্বীকার জবানবন্দি দেয় তারা।

© Copyright 2014-2018, All Rights Reserved ||| Powered By AnyNews24.Com || Developer By Abir-Group

%d bloggers like this:
www.scriptsell.net