ছোটরা ফিরেছে ক্লাসে ক্ষুব্ধ বড়রা সড়কে

আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

সড়কে নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে গতকাল রবিবার অষ্টম দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ছিল। তবে কিশোর শিক্ষার্থীদের গতকাল রাস্তায় তেমন দেখা মেলেনি। শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ঝিগাতলা, ভাটারা, প্রগতি সরণি, রামপুরা, উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। এর মধ্যে জিগাতলায় গতকালও সহিংসতা হয়েছে। এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহের সময় হামলাকারীরা কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর করে। আহত চার ফটো সাংবাদিককে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। উত্তরায় শিক্ষার্থীরা কয়েকজন বহিরাগতকে ধাওয়া দিয়ে তাদের তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

দুপুরে শাহবাগ ও সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তিন হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করে ঝিগাতলায় গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস শেল ছুড়ে ও লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপরই মাথায় হেলমেট পরে লাঠি ও দেশি অস্ত্র হাতে একদল যুবক পুলিশের সঙ্গে মিলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশের সঙ্গে মিলে গলিতে গলিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া ও মারধর করে। হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে। আহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২০ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, শনিবারও এভাবে হামলা করা হয়েছিল। গতকাল এর প্রতিবাদ করায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টা থেকে শাহবাগে জড়ো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। সকাল ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, বারডেমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়। ওই সময় সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরা কিছু শিক্ষার্থী দেখা যায়। সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি হয়ে ঝিগাতলা এলাকার দিকে রওনা দেয়। বুয়েটের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীও কাঁটাবন মোড় হয়ে মিছিলে জড়ো হয়। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকেও কিছু শিক্ষার্থী যুক্ত হয় মিছিলে। সম্মিলিতভাবে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের দিকে গেলে পুলিশ তাদের পিছু হটতে বলে। ছাত্রছাত্রীরা পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে ধানমণ্ডি ৩/এ সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে শিক্ষার্থীদের একাংশ সেখান থেকে ঘুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরির পথ ধরে। তবে আরেক অংশ সেখানেই অবস্থান করে আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ অন্তত ২৫ রাউন্ড টিয়ার গ্যাস শেল ছোড়ে। পুলিশ লাঠিপেটাও করে। তখন শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে ধানমণ্ডি লেকের দিক থেকে একদল যুবক লাঠিসোঁটা, রামদা, কিরিচ ইত্যাদি নিয়ে এসে তাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় ধাওয়াধাওয়ির মধ্যে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একপর্যায়ে বিজিবি গেটের ভেতর থেকে বিজিবি সদস্যদের বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশের সামনে অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র যুবকরা এই হামলা চালায়। তারা মোটরসাইকেল আরোহীদের থামিয়ে তাদের হেলমেট কেড়ে নেয়। শিক্ষার্থীদের সরিয়ে তারা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এই সুযোগ নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের মধ্যে ১২ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে শিক্ষার্থীরা জানায়। তাঁরা হলেন নুসরাত জাহান (২১), সুস্মিতা রয়েল লিসা (২৩), মাহমুদুর রহমান (২২), তুষার (২৪), মারুফ (২৫), নাঈম (২৪), শাওন (২৩) ও শিমন্তী (২৬), রাকিন (২৩, বুয়েট), রাব্বি (২২), এনামুল হক (২৪, আইইউবি) ও  তামিম (২৩)।

হামলার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল বহর নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় মহড়া দিতে দেখা গেছে। দুপুর ২টার দিকে ঝিগাতলা থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও এলিফ্যান্ট রোডে প্রতিটি গলিতে ঢুকে তল্লাশি চালায় তারা। এলিফ্যান্ট রোডে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

এ সময় ল্যাবএইডের পাশে অবস্থান নিয়ে থাকা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় একদল যুবক। তারা ছবি তোলার কারণে কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) সাংবাদিক এ এইচ আহাদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ স্টার কাবারের পেছনের গলিতে অবস্থান দেয়। অন্যদিকে হামলায় আহত হয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ বেল টাওয়ারের দিকে ধানমণ্ডি ১ নম্বর সড়ক দিয়ে নিউ মার্কেট ও বাটা সিগন্যালের দিকে সরে যায়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কারা হামলা চালিয়েছে তা আমরা জানি না। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। কারা হামলাকারী আর কারা শিক্ষার্থী—তাদের পরিচয় আমরা জানি না।’ তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে এগোনোর পথে বাধা দেওয়া হয়নি। তারা বাধা না শুনে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে এগোতে চাইলে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়।

ঝিগাতলার দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে মুনতাহিন নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, ‘শনিবারের ঘটনা গুজব নয়। হামলা হয়েছিল। আমরা ফেসবুকে দেখেছি!’ কাওসার নামে বুয়েটের এক ছাত্র বলেন, ‘এসব করে শিক্ষার্থীদের দমানো যাবে না। ছোটরা এখন উঠে গেছে। এখন আমরা এসেছি। আমরা ওখানে যাব।’ ধানমণ্ডিতে কেন যাচ্ছেন—জানতে চাইলে রাশেদ নামের এক ছাত্র বলেন, ‘সেখানে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে হামলা হয়েছে বলে শুনেছি। ওদের দেখিয়ে দেব!’

উত্তরায় শিক্ষার্থীদের হামলা : গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, মাইলস্টোন কলেজ, স্কলাসটিকা, টঙ্গী কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। দুপুর ১টার দিকে ১০-১২টি মোটরসাইকেলে করে একদল তরুণ অবরোধ ভাঙতে চাইলে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে তাদের ধাওয়া দেয় এবং কয়েকজনকে মারধর করে। এ সময় ছাত্রলীগের তুরাগ থানার সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মারধরের শিকার হন বলে জানা যায়। তা ছাড়া আরো পাঁচ-ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়। তাদের তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তারা হাতে লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে গতকালের মতো কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।

রামপুরায় ও প্রগতি সরণি : সকাল থেকেই রামপুরার রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। দুপুর পৌনে ১টার দিকে রামপুরায় শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান নেয় একদল যুবক। মেরুল বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজের দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে এগোতে থাকে তারা। এ সময় স্টেট ইউনিভার্সিটির সামনের গাছ ও দোকান ভেঙে লাঠি ও বাঁশ নিয়ে শিক্ষার্থীরাও অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রামপুরা সেতুর ওপর পুলিশ অবস্থান নেয়। রামপুরা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একজন আহত হয়েছে, এমন গুজবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। গতকাল চারজন নিহত হওয়ার গুজবের কথাও বলছে তারা। আমরা তাদের লাঠিসোঁটা ফেলে রাস্তার এক প্রান্তে অবস্থান নিতে বলেছি।’ রামপুরায় ইউনিফর্ম ও আইডি কার্ড ছাড়া কিছু তরুণকে অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গাড়ি ঘুরিয়ে দিতে দেখা গেছে। তারা রিকশা থেকেও যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছিল।

এ ছাড়া দুপুর ১২টার দিকে প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে রাস্তা বন্ধ করে দেয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ওই সময় তারা লাঠি, রড নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই রাস্তা বন্ধ করে রাখে তরুণ শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী পরীবাগ থেকে শাহবাগের দিকে অবস্থানের জন্য যেতে চাইলে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ে। ওই শিক্ষার্থীরা তখন ব্যাংক এশিয়ার পাশের গলিতে ঢুকে পড়ে।

আওয়ামী লীগের কর্মীরা রাস্তায় : আন্দোলনের মধ্যে নাশকতাকারীরা ঢুকেছে দাবি করে রবিবার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও সড়কে অবস্থান নেয়। সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর-১, ২, ১০ নম্বর থেকে ভাসানটেক এলাকা পর্যন্ত আওয়মী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। গত সাত দিনে শিক্ষার্থীরা যেসব এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল সেসব এলাকায় তারা কিছুক্ষণ পর পর মহড়া দেয়। বাঙলা কলেজ এবং মিরপুর থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রাজপথে মিছিল করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফায়ার সার্ভিস অফিসের কাছে ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও গুলশানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাস্তায় দেখা গেছে।

ছোটরা ফেরো ক্লাসে : গত সপ্তাহের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সারা দেশের মানুষের সমর্থন ছিল। এরই মধ্যে শিক্ষাবিদ, বিশিষ্টজন ও শিক্ষক-অভিভাবকরাও বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মূলত সেই ডাকেই সাড়া দিয়ে গতকাল তারা আন্দোলনে নামেনি, ফিরে গেছে ক্লাসে। রাজধানীর মিরপুরের একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমার ছেলে কিন্তু আজ (রবিবার) আর আন্দোলনে যায়নি। আমার ছেলে আন্দোলনে ছিল। ট্রাফিকব্যবস্থার শৃঙ্খলতায়ও সে কাজ করেছে। আমি জেনেও তাকে বাধা দিইনি। কিন্তু তাদের জাতিকে যা দেখানোর তা তো দেখানো হয়ে গেছে। আর তারা গত সাত দিন যে কাজ করেছে, এটা তো তাদের কাজ নয়। তাই সবার সঙ্গে একমত হয়ে আমিও আমার ছেলেকে বলেছি, আর আন্দোলন নয়। এবার পড়ালেখায় মন দাও।’

গত সাত দিনের আন্দোলনেই মিরপুরের শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের প্রথম শিফটের ছুটির পরই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী যোগ দিত আন্দোলনে। মূলত ট্রাফিকব্যবস্থার শৃঙ্খলা আনতেই তারা কাজ করত। কিন্তু গতকাল ছুটির পরে যে যার বাসায় ফিরছিল। দুপুর সাড়ে ১২টায় স্কুলের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন মাহি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন আর আন্দোলনে যাওয়া ঠিক নয়। কিভাবে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে হয় সেটা তো আমরা দেখিয়েছি। এর পরও যদি ঠিক না হয় পরে আমরা আবারও তা শেখাব।’  

ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহজাহান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের ১৪ হাজার শিক্ষার্থী। সব অভিভাবককে এসএমএস দিয়েছি, সোমবার থেকে তাঁদের সন্তানদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে। যারা সোমবার আসবে না, তাদের অভিভাবকদের জবাবদিহি করতে হবে।’

গতকালও রাজধানীর বেশ কিছু স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ অন্যতম। তবে আজ সোমবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে।

ছোটরা ফিরেছে ক্লাসে ক্ষুব্ধ বড়রা সড়কে

আন্দোলরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। 

সড়কে নৈরাজ্য বন্ধের দাবিতে গতকাল রবিবার অষ্টম দিনের মতো রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ছিল। তবে কিশোর শিক্ষার্থীদের গতকাল রাস্তায় তেমন দেখা মেলেনি। শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ঝিগাতলা, ভাটারা, প্রগতি সরণি, রামপুরা, উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। এর মধ্যে জিগাতলায় গতকালও সহিংসতা হয়েছে। এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহের সময় হামলাকারীরা কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর করে। আহত চার ফটো সাংবাদিককে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে পাঠানো হয়। উত্তরায় শিক্ষার্থীরা কয়েকজন বহিরাগতকে ধাওয়া দিয়ে তাদের তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।

দুপুরে শাহবাগ ও সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে জড়ো হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই-তিন হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল করে ঝিগাতলায় গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পড়ে। পুলিশ টিয়ার গ্যাস শেল ছুড়ে ও লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপরই মাথায় হেলমেট পরে লাঠি ও দেশি অস্ত্র হাতে একদল যুবক পুলিশের সঙ্গে মিলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশের সঙ্গে মিলে গলিতে গলিতে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া ও মারধর করে। হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে। আহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২০ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, শনিবারও এভাবে হামলা করা হয়েছিল। গতকাল এর প্রতিবাদ করায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১০টা থেকে শাহবাগে জড়ো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। সকাল ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, বারডেমসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়। ওই সময় সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে স্কুল-কলেজের ইউনিফর্ম পরা কিছু শিক্ষার্থী দেখা যায়। সাড়ে ১১টার দিকে শাহবাগের শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবরেটরি হয়ে ঝিগাতলা এলাকার দিকে রওনা দেয়। বুয়েটের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীও কাঁটাবন মোড় হয়ে মিছিলে জড়ো হয়। সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকেও কিছু শিক্ষার্থী যুক্ত হয় মিছিলে। সম্মিলিতভাবে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের দিকে গেলে পুলিশ তাদের পিছু হটতে বলে। ছাত্রছাত্রীরা পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে ধানমণ্ডি ৩/এ সড়কে অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দিলে শিক্ষার্থীদের একাংশ সেখান থেকে ঘুরে সায়েন্স ল্যাবরেটরির পথ ধরে। তবে আরেক অংশ সেখানেই অবস্থান করে আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ অন্তত ২৫ রাউন্ড টিয়ার গ্যাস শেল ছোড়ে। পুলিশ লাঠিপেটাও করে। তখন শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে ধানমণ্ডি লেকের দিক থেকে একদল যুবক লাঠিসোঁটা, রামদা, কিরিচ ইত্যাদি নিয়ে এসে তাদের ওপর চড়াও হয়। এ সময় ধাওয়াধাওয়ির মধ্যে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। একপর্যায়ে বিজিবি গেটের ভেতর থেকে বিজিবি সদস্যদের বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশের সামনে অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র যুবকরা এই হামলা চালায়। তারা মোটরসাইকেল আরোহীদের থামিয়ে তাদের হেলমেট কেড়ে নেয়। শিক্ষার্থীদের সরিয়ে তারা সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এই সুযোগ নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। আহতদের মধ্যে ১২ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে শিক্ষার্থীরা জানায়। তাঁরা হলেন নুসরাত জাহান (২১), সুস্মিতা রয়েল লিসা (২৩), মাহমুদুর রহমান (২২), তুষার (২৪), মারুফ (২৫), নাঈম (২৪), শাওন (২৩) ও শিমন্তী (২৬), রাকিন (২৩, বুয়েট), রাব্বি (২২), এনামুল হক (২৪, আইইউবি) ও  তামিম (২৩)।

হামলার পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল বহর নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় মহড়া দিতে দেখা গেছে। দুপুর ২টার দিকে ঝিগাতলা থেকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও এলিফ্যান্ট রোডে প্রতিটি গলিতে ঢুকে তল্লাশি চালায় তারা। এলিফ্যান্ট রোডে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে।

এ সময় ল্যাবএইডের পাশে অবস্থান নিয়ে থাকা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয় একদল যুবক। তারা ছবি তোলার কারণে কয়েকজন সাংবাদিককে মারধর করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) সাংবাদিক এ এইচ আহাদসহ স্থানীয় গণমাধ্যমের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন। দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ স্টার কাবারের পেছনের গলিতে অবস্থান দেয়। অন্যদিকে হামলায় আহত হয়ে শিক্ষার্থীদের একাংশ বেল টাওয়ারের দিকে ধানমণ্ডি ১ নম্বর সড়ক দিয়ে নিউ মার্কেট ও বাটা সিগন্যালের দিকে সরে যায়।

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘কারা হামলা চালিয়েছে তা আমরা জানি না। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। কারা হামলাকারী আর কারা শিক্ষার্থী—তাদের পরিচয় আমরা জানি না।’ তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে এগোনোর পথে বাধা দেওয়া হয়নি। তারা বাধা না শুনে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে এগোতে চাইলে কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়।

ঝিগাতলার দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে মুনতাহিন নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী বলেন, ‘শনিবারের ঘটনা গুজব নয়। হামলা হয়েছিল। আমরা ফেসবুকে দেখেছি!’ কাওসার নামে বুয়েটের এক ছাত্র বলেন, ‘এসব করে শিক্ষার্থীদের দমানো যাবে না। ছোটরা এখন উঠে গেছে। এখন আমরা এসেছি। আমরা ওখানে যাব।’ ধানমণ্ডিতে কেন যাচ্ছেন—জানতে চাইলে রাশেদ নামের এক ছাত্র বলেন, ‘সেখানে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে হামলা হয়েছে বলে শুনেছি। ওদের দেখিয়ে দেব!’

উত্তরায় শিক্ষার্থীদের হামলা : গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, মাইলস্টোন কলেজ, স্কলাসটিকা, টঙ্গী কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। দুপুর ১টার দিকে ১০-১২টি মোটরসাইকেলে করে একদল তরুণ অবরোধ ভাঙতে চাইলে শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে তাদের ধাওয়া দেয় এবং কয়েকজনকে মারধর করে। এ সময় ছাত্রলীগের তুরাগ থানার সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মারধরের শিকার হন বলে জানা যায়। তা ছাড়া আরো পাঁচ-ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়। তাদের তিনটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে শিক্ষার্থীরা। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত তারা হাতে লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে গতকালের মতো কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা।

রামপুরায় ও প্রগতি সরণি : সকাল থেকেই রামপুরার রাস্তায় নামে শিক্ষার্থীরা। দুপুর পৌনে ১টার দিকে রামপুরায় শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থান নেয় একদল যুবক। মেরুল বাড্ডা থেকে রামপুরা ব্রিজের দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে এগোতে থাকে তারা। এ সময় স্টেট ইউনিভার্সিটির সামনের গাছ ও দোকান ভেঙে লাঠি ও বাঁশ নিয়ে শিক্ষার্থীরাও অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রামপুরা সেতুর ওপর পুলিশ অবস্থান নেয়। রামপুরা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একজন আহত হয়েছে, এমন গুজবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। গতকাল চারজন নিহত হওয়ার গুজবের কথাও বলছে তারা। আমরা তাদের লাঠিসোঁটা ফেলে রাস্তার এক প্রান্তে অবস্থান নিতে বলেছি।’ রামপুরায় ইউনিফর্ম ও আইডি কার্ড ছাড়া কিছু তরুণকে অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন গাড়ি ঘুরিয়ে দিতে দেখা গেছে। তারা রিকশা থেকেও যাত্রীদের নামিয়ে দিচ্ছিল।

এ ছাড়া দুপুর ১২টার দিকে প্রগতি সরণির যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে রাস্তা বন্ধ করে দেয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ওই সময় তারা লাঠি, রড নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই রাস্তা বন্ধ করে রাখে তরুণ শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী পরীবাগ থেকে শাহবাগের দিকে অবস্থানের জন্য যেতে চাইলে পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ে। ওই শিক্ষার্থীরা তখন ব্যাংক এশিয়ার পাশের গলিতে ঢুকে পড়ে।

আওয়ামী লীগের কর্মীরা রাস্তায় : আন্দোলনের মধ্যে নাশকতাকারীরা ঢুকেছে দাবি করে রবিবার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও সড়কে অবস্থান নেয়। সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর-১, ২, ১০ নম্বর থেকে ভাসানটেক এলাকা পর্যন্ত আওয়মী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে থাকতে দেখা যায়। গত সাত দিনে শিক্ষার্থীরা যেসব এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল সেসব এলাকায় তারা কিছুক্ষণ পর পর মহড়া দেয়। বাঙলা কলেজ এবং মিরপুর থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের রাজপথে মিছিল করে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দেখা যায়। সকাল ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফায়ার সার্ভিস অফিসের কাছে ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রলীগ তাদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর ও গুলশানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের রাস্তায় দেখা গেছে।

ছোটরা ফেরো ক্লাসে : গত সপ্তাহের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সারা দেশের মানুষের সমর্থন ছিল। এরই মধ্যে শিক্ষাবিদ, বিশিষ্টজন ও শিক্ষক-অভিভাবকরাও বিভিন্ন মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মূলত সেই ডাকেই সাড়া দিয়ে গতকাল তারা আন্দোলনে নামেনি, ফিরে গেছে ক্লাসে। রাজধানীর মিরপুরের একজন অভিভাবক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘আমার ছেলে কিন্তু আজ (রবিবার) আর আন্দোলনে যায়নি। আমার ছেলে আন্দোলনে ছিল। ট্রাফিকব্যবস্থার শৃঙ্খলতায়ও সে কাজ করেছে। আমি জেনেও তাকে বাধা দিইনি। কিন্তু তাদের জাতিকে যা দেখানোর তা তো দেখানো হয়ে গেছে। আর তারা গত সাত দিন যে কাজ করেছে, এটা তো তাদের কাজ নয়। তাই সবার সঙ্গে একমত হয়ে আমিও আমার ছেলেকে বলেছি, আর আন্দোলন নয়। এবার পড়ালেখায় মন দাও।’

গত সাত দিনের আন্দোলনেই মিরপুরের শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের প্রথম শিফটের ছুটির পরই বেশির ভাগ শিক্ষার্থী যোগ দিত আন্দোলনে। মূলত ট্রাফিকব্যবস্থার শৃঙ্খলা আনতেই তারা কাজ করত। কিন্তু গতকাল ছুটির পরে যে যার বাসায় ফিরছিল। দুপুর সাড়ে ১২টায় স্কুলের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন মাহি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন আর আন্দোলনে যাওয়া ঠিক নয়। কিভাবে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে হয় সেটা তো আমরা দেখিয়েছি। এর পরও যদি ঠিক না হয় পরে আমরা আবারও তা শেখাব।’  

ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শাহজাহান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের ১৪ হাজার শিক্ষার্থী। সব অভিভাবককে এসএমএস দিয়েছি, সোমবার থেকে তাঁদের সন্তানদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে। যারা সোমবার আসবে না, তাদের অভিভাবকদের জবাবদিহি করতে হবে।’

গতকালও রাজধানীর বেশ কিছু স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর মধ্যে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মতিঝিল, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা সিটি কলেজ অন্যতম। তবে আজ সোমবার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে।

© Copyright 2014-2018, All Rights Reserved ||| Powered By AnyNews24.Com || Developer By Abir-Group

%d bloggers like this:
www.scriptsell.net