উল্টোপথের মোটরসাইকেল থামানোয় পুলিশকে ছাত্রলীগের ধাওয়া

Image result for উল্টোপথের মোটরসাইকেল থামানোয় পুলিশকে ছাত্রলীগের ধাওয়া

নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সারা দেশে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ যখন ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করছে, তখন চট্টগ্রামে উল্টোপথে আসা মোটরসাইকেল আটকানোর দায়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর হাতে পুলিশ সদস্য লাঞ্ছিতের ঘটনা ঘটেছে।

গত রোববার দুপুরে নগরের নিউমার্কেট মোড়ে এ ঘটনার কয়েকটি ছবি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। ঘটনার পর এক সার্জেন্ট মামলা দায়ের করেছেন ছয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

মামলার বাদী ট্রাফিক সার্জেন্ট মাজহারুল আলম সোহাগ। আসামিরা হলেন- শিবু ভট্টাচার্য্য, মো. মেহেরাজ, জয়, এনামুল হক, ফয়সাল ও আদর।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের মধ্যে মেহেরাজের সঙ্গে মূলত ঘটনার সূত্রপাত হয়। নগরীর মাদারবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মেহেরাজ মোটরসাইকেল নিয়ে উল্টোপথে নিউমার্কেট এলাকায় আসেন। তার মাথায় হেলমেটও ছিল না।

নিউমার্কেট মোড়ে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মেহেরাজের বিরুদ্ধে মামলা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেহেরাজ তার কথিত রাজনৈতিক বড় ভাইদের ফোন দিয়ে নিয়ে আসে। তারা এসে নিউমার্কেট মোড় পুলিশ বক্সে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করে। খবর পেয়ে কোতোয়ালী থানা থেকে পুলিশের টিম গেলে তাদেরও ধাওয়া দেয় তারা।

পরে পুলিশকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়ার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, পাঁচ যুবক এক পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দিচ্ছে। ধাওয়ার এক পর্যায়ে ওই পুলিশ সদস্যকে কিল-ঘুষি দেয়ার চেষ্টা করছে ওই যুবকরা।

ধাওয়ার ছবি প্রকাশের পর সিএমপিতে তোলপাড় শুরু হয়। তাৎক্ষণিক তদন্তে নেমে পুলিশ ছয় যুবকের পরিচয় পেলেও মামলা দায়ের করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা দেরি করেন। ছাত্রলীগের কর্মী বলে পরিচয় পাবার পরই মামলা দায়েরে দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সূত্রমতে, মেহেরাজ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। মেহেরাজসহ হামলাকারী তার কথিত বড় ভাইরা সবাই সরকারি সিটি কলেজ ও ইসলামিয়া কলেজ কেন্দ্রীক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রসংসদের ভিপি রাজীব হাসান রাজনের অনুসারী।

জানতে চাইলে কোতয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয় আমরা দেখছি না। পুলিশকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে, কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে, সুনিদির্ষ্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে। এখানে কাউকে ছাড় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।

READ  জুতায় ক্যামেরা, শর্ট স্কার্ট সাবধান!

Leave a Reply

%d bloggers like this: