১৩ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক করায় ২০ বছরের জেল শিক্ষিকার

ব্রিটেনি জামরা।

অ- অ অ+

স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মনে করা হয় দ্বিতীয় বাবা-মা। তারা স্কুলের ছাত্রদের নিজের সন্তানের মতো করে শিক্ষা দিয়ে সামাজের একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবেন এরকম আশা সবাই করেন। তারা শিশুদের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তনে কাজ করবেন বাবা-মায়ের মতো। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্কুলে ঘটেছে ভিন্নরকমের এক ঘটনা। সেখানের এক স্কুলশিক্ষিকা নিয়মিত এক ছাত্রের সঙ্গে করতেন যৌনমিলন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রের সঙ্গে যৌনমিলন করায় ২০ বছর সাজা পেয়েছেন সাবেক এক শিক্ষিকা। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার অ্যারিজোনা রিপাবলিকের একটি আদালতে তাকে এই কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। তাকে গ্রেপ্তার করা হয় গত বছরের মার্চ মাসে।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ওই শিক্ষিকার নাম ব্রিটেনি জামরা। তিনি ওই স্কুলছাত্রকে প্রলুব্ধ করতেন অনৈতিক সম্পর্ক করতে। তিনি ওই স্কুলছাত্রকে তার নিজের নগ্ন ছবিও পাঠাতেন। এ ছাড়াও তিনি স্কুলছাত্রকে নিয়ে গাড়িতে ও শ্রেণিকক্ষে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।

গত শুক্রবার আদালতে শুনানির সময় ব্রিটেনি বলেন, আমি একজন ভাল এবং সত্যিকারের ব্যক্তি যে এই ধরনের ভুল করেছে। আমি এই বিষয়টির জন্য গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি আইনের প্রতি সব সময় শ্রদ্ধা করি এবং প্রত্যেক আইন মেনে চলার চেষ্টা করি। আমি কোনো উপায়ে সমাজের জন্য হুমকি নই।

স্কুলছাত্রের বাবা-মা এই বিষয়টি প্রথমে বুঝতে পারে যখন তার মোবাইলে কিছু মেসেজ দেখেন। তারা ভোক্তভুগী শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোনে দেখতে পান যে কিছু সন্দেহজনক মেসেজ আসতে। এই ঘটনায় তারা স্থানীয় পুলিশ ও স্কুলকর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ব্রিটেনি জামরা যৌনমিলনের বিষয়টি স্বীকার করেন। 

পরে স্থানীয় আদালতে তাকে নেওয়া হলে ২০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতে ভোক্তভুগীর মায়ের দেওয়া একটি বিবৃতি পড়া হয়, সেখানে বলা হয়, ব্রিটেনি আমার ছেলের সরলাত চুরি করেছেন। তিনি আমাদের বিশ্বাসকে ভেঙে দিয়েছেন এবং বিশ্বাসকে চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছেন। 

ভোক্তভুগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, আগে আমার ছেলে ছিল একজন নিষ্কলঙ্ক মানুষ। কিন্তু ব্রিটেনি আমার ছেলেকে কলঙ্কিত করেছেন। আমার ছেলে এবং আমার পরিবারের সঙ্গে যা করেছের তার জন্য আমি ব্রিটেনিকে ঘৃণা করি।  

ওই স্কুলছাত্রের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া আগে ব্রিটেনি তাকে অনেক টেক্সট মেসেজ পাঠাতেন। সেখানে তিনি যৌন আবেদনমূলক আলোচনা করতেন।

ব্রিটেনি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা স্থানীয় এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন ২০১৫ সালের দিকে। তিনি এখনো কোনো সন্তানের মা হতে পারেননি। বর্তমানে তারা বিবাহ বিচ্ছেদ করেছেন কিনা সেই বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যয়নি।

সূত্র: দ্য সান।

© Copyright 2014-2018, All Rights Reserved ||| Powered By AnyNews24.Com || Developer By Abir-Group

%d bloggers like this:
www.scriptsell.net